আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রামে গত ২৪ ঘন্টায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নদ-নদীর পানিতে নিচু এলাকার ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম জেলা শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়, ফায়ার সার্ভিস, পিটিআই চত্তরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে তিস্তার অববাহিকার বাদাম, তিলসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনে টানা বৃষ্টিপাতে জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস চত্তর, পিটিআই চত্তর, জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্তরে হাট পানি জমে। এতে দুর্ভোগে পড়েন এসব কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা মানুষজন। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার তিস্তাপাড়ের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, উজানের পানি ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা পানি বৃদ্ধি পেয়ে অববাহিকার নতুন চরগুলো চাষাবাদ করা বাদাম ও তিলের ক্ষেতে পানি উঠেছে। কিছু ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত পানি না নামলে এসব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসা মমিনুল হক জানায়, বৃষ্টি হলেই জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্তরে হাঁটু পানি জমে থাকে। অফিসে ঢোকার কোন ব্যবস্থা নেই। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: আসাদুজ্জামান জানান, টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর অববাহিকার ১৩০ হেক্টর জমির বাদাম ও তিলসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তিল ও বাদাম ক্ষেতের।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তবে পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।