
হাকিকুল ইসলাম খোকন,ইউ এস এ প্রতিনিধি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে তাঁকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সমর্থনও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হতে সাহায্য করতে পারেনি। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জোহরান মামদানি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।খবর আইবিএননিউজ । অনেকে ভেবেছিলেন, ট্রাম্পের প্রভাব এবং ক্যুমো দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এই নির্বাচনের চিত্র পাল্টে দিতে পারে। কিন্তু তা হয়নি। শহরের ভোটাররা এবার পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্বকেই বেছে নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্যুমো পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, গভর্নর হিসেবে তাঁর আমলে নানা বিতর্ক, বিশেষ করে কোভিড সময়ে নার্সিং হোমের মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করা এবং একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগ—তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। অনেক ভোটার মনে করেছেন, কুওমো পুরনো রাজনীতির প্রতীক, যেখানে তাঁরা চাচ্ছিলেন নতুন মুখ ও ভিন্ন ধারা। দ্বিতীয়ত, জোহরান মামদানির প্রচারণা ছিল অনেক বেশি সক্রিয়, তরুণনির্ভর ও স্পষ্ট ইস্যুভিত্তিক। ভাড়া স্থির রাখা, ধনীদের ওপর কর বাড়ানো, সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো—এই প্রতিশ্রুতিগুলো সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। মামদানির প্রচারণা ছিল ঘরে ঘরে, রাস্তায় রাস্তায়, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ভরা। অন্যদিকে, কুওমোর প্রচারণা ছিল বেশি আনুষ্ঠানিক ও পুরনো ধাঁচের, যেখানে সাধারণ মানুষকে কাছে টানার উষ্ণতা কম ছিল।
তৃতীয়ত, ট্রাম্পের সমর্থন অনেকের কাছে উল্টো ফল দিয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত শহর। সেখানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা খুবই কম। ফলে তাঁর প্রকাশ্য সমর্থনে ক্যুমো কিছু রক্ষণশীল ভোটার পেলেও, মধ্যপন্থী ও উদার ভোটারদের একটা বড় অংশ দূরে সরে যায়। এক বিশ্লেষক বলেন, ট্রাম্পের সমর্থন নিউইয়র্কে আশীর্বাদ নয়, বরং অনেকের কাছে তা অভিশাপ। আরেকটি কারণ হলো, ক্যুমো শেষ মুহূর্তে রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের একত্র করতে পারেননি। ভোট বিভক্ত হওয়ায় জোহরান মামদানি তুলনামূলক সহজে জয় পান। শহরের মুসলিম, দক্ষিণ এশীয়, আফ্রিকান আমেরিকান ও তরুণ ভোটাররা ব্যাপকভাবে মামদানির পক্ষে ভোট দেন। নির্বাচনের পর ক্যুমো স্বীকার করেছেন, ফলাফল হতাশাজনক হলেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি এই শহরকে ভালোবাসি। নিউইয়র্ক আমার বাড়ি, আমি এখানকার মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাব। অন্যদিকে, জোহরান মামদানি তাঁর বিজয় বক্তৃতায় বলেন, এটা শুধু আমার জয় নয়, এটা নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের জয়। আজ আমরা প্রমাণ করেছি, শহরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন জনগণ, কোনো ধনী কর্পোরেশন বা রাজনীতিক নয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল নিউইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। পুরনো নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের স্থান নিচ্ছে তরুণ, প্রগতিশীল ও তৃণমূলের নেতা–নেত্রীরা। আর ক্যুমো এই পরাজয় দেখিয়ে দিল—শুধু অর্থ, অভিজ্ঞতা বা বড় নাম নয়, আজকের ভোটাররা চায় বিশ্বাসযোগ্যতা, স্পষ্ট অবস্থান আর পরিবর্তনের আশা।

হাকিকুল ইসলাম খোকন,ইউ এস এ প্রতিনিধি 


















