
মো:রমিজ আলী,সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে আবারও সম্মান পেলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মুজিবুর রহমান। কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও আধুনিক পুলিশিংয়ের আদর্শ সমন্বয়ে তিনি সীতাকুণ্ডে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে যে ভূমিকা রেখে চলেছেন, তারই ধারাবাহিক স্বীকৃতি এটি। জেলা পুলিশের নিয়মিত মাসিক অপরাধ মূল্যায়ন সভায় ওসি মুজিবুর রহমানকে ‘জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সভায় উপস্থিত দায়িত্বশীলরা জানান—মাদকবিরোধী অভিযান, ওপেন সোর্স গবেষণাভিত্তিক তথ্য ব্যবহার, দ্রুত মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তি, থানার সামগ্রিক প্রশাসন, অফিস ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে তিনি গত কয়েক মাসে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন।
মাদক ও অপরাধ দমনে নজরকাড়া সাফল্য: অপরাধ সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী—সীতাকুণ্ডে মাদকবিরোধী অভিযানের হার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। নিয়মিত অভিযানের ফলে অনেক চিহ্নিত মাদককারবারি আইনের আওতায় এসেছে। এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমেছে দৃশ্যমানভাবে, বিশেষত রাত্রিকালীন চুরি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ওসি মুজিবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থানায় প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ও তথ্য বিশ্লেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে অপরাধীদের সনাক্তকরণ সহজ হয়েছে, তদন্তেও এসেছে গতি।
জনবান্ধব পুলিশিং—সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরতার প্রতীক:
স্থানীয়দের মতে, ওসি মুজিবুর রহমান সীতাকুণ্ড থানাকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জনের জায়গায় রূপান্তর করেছেন।
➤থানায় আগত মানুষকে সম্মানজনক আচরণ প্রদান
➤ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শোনায় মনোযোগী ভূমিকা
➤শিক্ষার্থী, শ্রমিক, নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় নিয়মিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ
এসব কারণে তিনি
সীতাকুণ্ডবাসীর কাছে ইতোমধ্যেই একজন “জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা” হিসেবে পরিচিত হয়েছেন।
কমিউনিটি পুলিশিংকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া:
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ওসি মুজিবুর রহমান কমিউনিটি পুলিশিংকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন।
তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি গ্রুপ, ব্যবসায়ী সংগঠন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন। এর ফলে অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ে, যা পুলিশের কাজকে আরও সহজ ও গতিশীল করে।
পুরস্কারপ্রাপ্তির পর প্রতিক্রিয়া — মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা:
পুরস্কার গ্রহণের পর ওসি মুজিবুর রহমান বলেন—
“এই অর্জন সীতাকুণ্ডবাসীর কাছে উৎসর্গ করা। জনগণ পাশে না থাকলে পুলিশের পক্ষে কোনো কিছুই সম্ভব নয়। মানুষ যখন আমাদের ওপর ভরসা রাখে, সহযোগিতা করে, তখন দায়িত্ব আরও বাড়ে—আর আমরাও আরও উৎসাহ পাই।
সীতাকুণ্ডের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন:
সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চল, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, পাশাপাশি জনবহুল ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যস্ত একটি অঞ্চল। এ ধরনের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ নয়। কিন্তু ওসি মুজিবুর রহমান দায়িত্ব পাওয়ার পর—
☞যানবাহন নিরাপত্তা
☞শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা
☞মহাসড়কে শৃঙ্খলা
☞পাহাড়ি ও দূরবর্তী এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধ
এসব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য কাজের উদাহরণ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা ও নিয়মিত অভিযান ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। নাগরিক–ভাবনায় পুলিশকে আরও কাছে টেনে আনার যে চেষ্টা ওসি মুজিবুর রহমান করেছেন, তারই প্রতিফলন হলো জেলার ‘শ্রেষ্ঠ ওসি’ হিসেবে তাঁর পুনঃমনোনয়ন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সীতাকুণ্ড আরও নিরাপদ, আরও উন্নত এবং আরও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।

মো:রমিজ আলী,সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: 


















